বিনোদন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬:০৪, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বেলাল খান । ছবি সংগৃহীত
ক্যান্সার প্রতিরোধ ও সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রকাশিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী মিউজিক ভিডিও ‘মিতু জিতুর গল্প’। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী বেলাল খানের কণ্ঠে গানটির কথা লিখেছেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী চিকিৎসক ড. কাজী সালেহীন। সুর, সংগীত পরিচালনা, মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট, মিক্সিং-মাস্টারিং ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন এস কে সমীর। ডক্টর কাজী প্লানেটের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশিত হয়েছে।
‘মিতু জিতুর গল্প’ একটি ভালোবাসার গল্পের মধ্য দিয়ে ক্যান্সার প্রতিরোধ, সময়মতো স্ক্রিনিং এবং জনসচেতনতার গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরেছে। গল্পে দেখানো হয়েছে, কোলন ক্যান্সারের কারণে ভালোবাসায় পূর্ণ দুটি মানুষের জীবন কীভাবে হঠাৎ বদলে যেতে পারে। একই সঙ্গে সময়মতো স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার প্রতিরোধ কিংবা প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে।
গানটির অন্যতম বার্তা—‘আপনজনকে ধরে রাখতে হলে ক্যান্সার স্ক্রিনিং খুব জরুরি’ এবং ‘ভালোবাসাকে ধরে রাখতে হলে ক্যান্সার স্ক্রিনিং খুব জরুরি।’
ভিডিওটি পরিচালনা ও চিত্রগ্রহণ করেছেন মাহদী আল মুজাহিদ। অভিনয় করেছেন শেখ রাতুল রহমান ও অহি ইসলাম অথৈ। বিশেষ উপস্থিতিতে রয়েছেন রুনা হক। সচেতনতামূলক বার্তাগুলোকে আরও আবেগঘন করে তুলতে ভয়েস ওভার দিয়েছেন হাসান মাহাদী।
গানটিতে কোলন, স্তন, প্রস্টেট ও সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের স্ক্রিনিং নিয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি স্ক্রিনিংয়ের আগে ও পরে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার গুরুত্বও উল্লেখ করা হয়েছে।
কণ্ঠশিল্পী বেলাল খান বলেন, “গান মানুষের বিনোদনের পাশাপাশি সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনও আনতে পারে। ‘মিতু জিতুর গল্প’ এমনই একটি ব্যতিক্রমী কাজ, যেখানে গান ও সচেতনতার সুন্দর সমন্বয় হয়েছে। আশা করি, গানটি মানুষকে ক্যান্সার স্ক্রিনিং সম্পর্কে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করবে।”
গীতিকার ও প্রযোজক ড. কাজী সালেহীন বলেন, “আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে প্রতিদিনই ক্যান্সারের কারণে অসংখ্য পরিবারের কষ্টের গল্প দেখি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ‘মিতু জিতুর গল্প’ লেখার অনুপ্রেরণা পাই। আমাদের উদ্দেশ্য মানুষকে ভয় দেখানো নয়, বরং সময়মতো স্ক্রিনিংয়ের গুরুত্ব জানানো। যদি এই গান একজন মানুষকেও সময়মতো স্ক্রিনিং করাতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, তাহলেই আমাদের প্রচেষ্টা সফল হবে।”
এস কে সমীর জানান, গানটি তাঁর জন্য ব্যক্তিগতভাবেও আবেগের। তাঁর মা দীর্ঘ আড়াই বছর ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করেন। এ ছাড়া তাঁর সেজো মামা, সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার, নজরুলগীতি শিল্পী ও নজরুল গবেষক প্রয়াত শেখ করিমুল আলম এবং তাঁর একমাত্র মেয়ে মডেল ও অভিনেত্রী শেখ শিরিন শাহদ্ সেঁউতিও ক্যান্সারে মারা গেছেন।
এস কে সমীর বলেন, “সেই জায়গা থেকে এটি আমার কাছে একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রকল্প। গানটির প্রতিটি ধাপে আমি নিজে কাজ করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি হৃদয়স্পর্শী ভালোবাসার গল্পের মাধ্যমে মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়া।”
ভিডিও পরিচালক মাহদী আল মুজাহিদ বলেন, “আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল দর্শকের হৃদয়ে গল্পটির আবেগ এবং সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া। আশা করি, দর্শক শুধু একটি মিউজিক ভিডিও দেখবেন না, পাশাপাশি নিজেদের ও প্রিয়জনদের সুস্থতার বিষয়েও নতুন করে ভাববেন।”
এস কে সমীর আরও বলেন, সংগীত শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, সমাজ পরিবর্তনেরও শক্তিশালী হাতিয়ার। ভবিষ্যতেও মানবিক ও সচেতনতামূলক আরও কাজ করার প্রত্যয় জানান তিনি।
TBI/PP