নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৩:৫১, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
দুই দেশের সম্পর্ক ‘অনুকূল জায়গায়’ পৌঁছানোর পর সফরের সময় ও তারিখ নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
অন্যদিকে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, সফরটি নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই; যথাসময়েই প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন এবং এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
কূটনৈতিক সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আগামী নভেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে সফর আয়োজনের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করেনি।
সম্পর্ক অনুকূল জায়গায় পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আলোচনা—পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: ভারতের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে ‘অনুকূল একটি জায়গায় পৌঁছানোর’ পরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেশটিতে সফরের সময় ও তারিখ নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। এসব চ্যালেঞ্জ সংলাপ ও আলোচনার মাধ্যমে অতিক্রম করব। আমরা আশাবাদী, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব।’
মঙ্গলবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে তিনি বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে এটি প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎ—উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, খুব ভালো, আন্তরিক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
তারেক রহমান এ বছরের নভেম্বরে ভারত সফরে যেতে পারেন, এমন গুঞ্জন সম্পর্কে সাংবাদিকরা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘গুঞ্জন মানে গুঞ্জনই। গুঞ্জন নিয়ে আমি কথা বলি না। আমি কথা বলি রিয়েলিটি নিয়ে। রিয়েলিটি হচ্ছে, আমাদের মধ্যে ভালো বৈঠক হয়েছে।’
ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে খুব শিগগির ইতিবাচক ফলাফলের প্রত্যাশার কথাও জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের সম্ভাবনা নিয়ে আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে যথাসময়ে—দীনেশ ত্রিবেদী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর যথাসময়ে হবে এবং এ নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নিয়ে তাড়াহুড়োর কিছু নাই, যথাসময়ে সফর হবে। সফরসূচি ঠিক করতে এখনো ইতিবাচক আলোচনা চলছে।
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এই সফর নিয়ে দুই দেশই ইতিবাচক। যেহেতু সব কিছু ইতিবাচক; এই সফর নিয়ে তিনি আশাবাদী।
তবে নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে যেতে পারেন বলে ভারতের গণমাধ্যমে যেসব খবর বেরিয়েছে সেগুলোকে সমর্থন করেননি দীনেশ ত্রিবেদী।
নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে—টাইমস অব ইন্ডিয়া: পূর্বের এক প্রচেষ্টা বাতিল হওয়ার পর, এবার নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সময়সূচি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রাখছে ভারত ও বাংলাদেশ— এমনটিই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে বা নভেম্বরের শুরুতে বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম দায়িত্ব গ্রহণের পর এ সফর পুনর্বিন্যাসের প্রচেষ্টা আরো গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত অমীমাংসিত বিষয়টিই প্রধান উদ্বেগ— যা এই সফর বাস্তবে রূপান্তরিত হবে কি না তা নির্ধারণ করতে পারে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাঠানো তারেক রহমানের জন্মদিনের শুভেচ্ছা এবং তার জবাবে মোদির দ্রুত সাড়া সফরটির তারিখ দ্রুত চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে।
তবে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল সম্প্রতি ঢাকা সফর করেছেন এমন ধারণা করছে অনেক গণমাধ্যম। তবে সে বিষয়ে কোনো পক্ষই স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবর, তারেক রহমানের ভারত সফর নভেম্বরে করা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা করছে ঢাকা ও দিল্লি।
এর আগে শুক্রবার কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের আরেকটি ইংরেজি সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর আয়োজনের চেষ্টা চলছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের শীর্ষ সম্মেলনের কয়েক দিন পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের এই উদ্যোগের কথা জানা গেল। ব্রিকসের আয়োজক দেশ ভারত আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল; কিন্তু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ওই আমন্ত্রণে সাড়া দেননি।
এর আগে অবশ্য আগস্টে তারেক রহমানকে দিল্লিতে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছিল বলে লিখেছে পত্রিকাটি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সফর হয়নি।
৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই বছর পূর্তিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে অডিও লিংকের মাধ্যমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার পর বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর পিছিয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই তাকে একক দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।
টিবিআই/আরআর