গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১:১৮, ২ নভেম্বর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
এ ঘটনায় মহাসড়কের উভয় পাশে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্ট যানজটে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী ও চালকেরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একদল শ্রমিক জড়ো হন। পরে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও কিছু লোকজন যোগ দেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম। তার দাবি, কিছুসংখ্যক শ্রমিকের সঙ্গে বহিরাগত লোকজন জড়ো হয়ে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে তারা বেতন বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নূরুল করিম ভূঁইয়া জানান, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ২১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করবেন।
ইতোমধ্যে বিজিবি সদস্যরা মাঠে অবস্থান নিয়েছেন। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক বলেন, আন্দোলনের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, মানুষের জানমালের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে।
এর আগে রোববার সকাল থেকে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর বাজার, মৌচাক ও তেলিচালা এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ শুরু হয়। দিনভর উত্তেজিত পরিস্থিতির মধ্যে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গুদাম ও পুলিশের একটি ভ্যানে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হন। দিনভর বিক্ষোভ, অবরোধ ও সহিংসতার কারণে অন্তত ৩০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ জানায়, শ্রমিকদের আন্দোলনে বহিরাগতদের অংশগ্রহণ ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। রোববার কালিয়াকৈরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের নয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের আন্দোলনে সরাসরি অংশ নেওয়া ও উসকানি দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ছাড়া গাজীপুর জেলা ও মহানগর পুলিশ মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
এদিকে গাজীপুরের মতো ঢাকা ও সাভার-আশুলিয়ায় রোববার শ্রমিকদের আন্দোলন হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে রাতে শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ অনেকের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি পোশাকশ্রমিকদের স্বার্থের সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলনকে ব্যবহার করে মিরপুর, সাভার ও গাজীপুরে সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
টিবিআই/আরআর