কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩:৩৬, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ঘটনার সময় দলীয় কার্যালয়ের ভেতরে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুমসহ মহানগরের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
তারা মহানগর জামায়াতের আমির নির্বাচনপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা ও রুকনদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। এ সময় কার্যালয়ের বাইরে একদল নেতা-কর্মী জড়ো হয়ে হট্টগোল শুরু করেন। একপর্যায়ে কার্যালয় চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং সেখানে রাখা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার গণমাধ্যমকে বলেন, জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নিজেদের সংঘর্ষ, গাড়ি ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, রুকনদের ভোটে দলের আমির নির্বাচিত হন। মহানগর কমিটির আমির নির্বাচনপ্রক্রিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম। তিনি মহানগরের বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করেন। বৈঠক চলাকালে এ কে এম এমদাদুল হকের অনুসারীরা কার্যালয়ের বাইরে হট্টগোল শুরু করেন। পরে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর কার্যালয়ের সামনে ভাঙা গাড়ি, কাচের টুকরা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কেন্দ্রীয় নেতা এ টি এম মাছুম নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে মূলত জামায়াতে ইসলামীর কুমিল্লা মহানগরের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদকে কেন্দ্র করে। তিনি ১৯৯৮ সাল থেকে কুমিল্লা শহর জামায়াতের আমির পদে রয়েছেন। ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার পর আবার তিনি মহানগর জামায়াতের আমিরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৯৮ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একটানা ২৮ বছর কুমিল্লা শহর ও মহানগর জামায়াতের আমিরের পদে রয়েছেন তিনি। এ কারণে এত দিন নিচের সারির নেতারা আমিরের নেতৃত্বে আসতে পারেননি। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বিরাজ করছিল। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।
রাতে গণমাধ্যমে মহানগর জামায়াতের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাঠানো হয়। মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের বরাতে পাঠানো ওই বক্তব্যে বলা হয়, কুমিল্লা মহানগরীর সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। এসব সংবাদ তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে বুধবার রাত সাতটার দিকে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতে ইসলামী কার্যালয়ে পূর্বনির্ধারিত একটি সভা চলছিল। এর মধ্যে কিছু যুবক প্রোগ্রামে ঢুকে হইচই শুরু করে। তারা চিৎকার করে চলে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি ভাঙচুর করে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে কারা জড়িত কেনইবা তারা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটালো- এসবের বিস্তারিত জেনে পুনরায় সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করা হবে।
টিবিআই/আরআর